
রাবি প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট | ১০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রেলে বিনা রসিদে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষকদের (টিটিই) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের চারুকলা সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি অভিযোগ করেন, পদ্মা এক্সপ্রেসে কয়েকজন টিটিই রসিদ ছাড়াই যাত্রীদের থেকে অনিয়ম করে টাকা নিচ্ছিলেন। প্রতিবাদ জানালে ৬-৭ জন টিটিই তাকে পেছন থেকে ধরে দুই বগির মাঝে নিয়ে ঘাড় ও পিঠে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যাতে তার চশমা ভেঙে যায়।
ফোরকান উদ্দীন বলেন, “রেলের রাজস্ব রাষ্ট্রের সম্পদ, টিকিট না দিয়ে টাকা নেওয়া অনিয়ম। সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ করায় আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”
ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি পেশ করেছেন:
১. অভিযুক্ত টিটিইদের সশরীরে উপস্থিত করতে হবে।
২. দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের দায়ে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে এবং রেল কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করতে হবে।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৪. রাবি স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং সামাজিক মাধ্যমে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
